প্রচ্ছদ > লাইফস্টাইল >

টক দইয়ে চিনি-লবণ মেশালে কমতে পারে পুষ্টিগুণ

article-img

গরমের দিনে এক বাটি টক দই শরীরকে যেমন শীতল রাখে, তেমনি এটি হজমশক্তি বাড়ানো ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, টক দইয়ের স্বাদ বাড়াতে অতিরিক্ত চিনি বা লবণ মেশানোর অভ্যাস এর পুষ্টিগুণ কমিয়ে দিতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, টক দই একটি প্রোবায়োটিক খাবার। এতে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা, হজমে সহায়তা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু এতে অতিরিক্ত চিনি মেশালে দইয়ের স্বাভাবিক রাসায়নিক ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া চিনি মেশালে দইয়ের ক্যালোরি বেড়ে যায়, যা ওজন বৃদ্ধি এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই টক দইয়ে বাড়তি চিনি না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।

অন্যদিকে, অনেকেই চিনির পরিবর্তে লবণ মিশিয়ে টক দই খান। কিন্তু এটিও সবসময় স্বাস্থ্যকর নয়। দইয়ে প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা সোডিয়াম থাকে। এর সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ যোগ করলে শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি বদহজম, বুকজ্বালা বা পেট ফাঁপার সমস্যাও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টক দইয়ের সর্বোচ্চ উপকার পেতে এটি প্রাকৃতিক অবস্থায় খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। তবে যাদের একেবারে সাদা টক দই খেতে অসুবিধা হয়, তারা স্বাদ বাড়াতে অল্প পরিমাণ খাঁটি মধু, অথবা আপেল, কলা, বেদানা কিংবা স্ট্রবেরির মতো মিষ্টি ফল মিশিয়ে খেতে পারেন।

লবণের পরিবর্তে সামান্য ভাজা জিরার গুঁড়ো বা গোলমরিচের গুঁড়ো ব্যবহার করলেও স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি হজমেও সহায়তা মিলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাবারের স্বাদ বাড়াতে গিয়ে যেন তার প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ নষ্ট না হয়। তাই টক দই খাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি ও নুন এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়াই হতে পারে ভালো অভ্যাস।